ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিবহন তত্ত্বাধায়ক আরিফ চৌধুরীকে অবশেষে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি সিটি করপোরেশনে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএসসিসির এক অফিস আদেশে তাকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল কর্মস্থল অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকে (কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে) ফেরত পাঠানো হয়। অর্থাৎ তাকে ১২তম গ্রেড থেকে নামিয়ে ১৫তম গ্রেডে পাঠানো হয়েছে।
আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার জ্বালানি তেল চুরি ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ডিএসসিসির নিজস্ব তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া একই অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক তদন্ত করছে।
ডিএসসিসির সচিব দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রশাসককে চাপ প্রয়োগ করে কম্পিউটার অপারেটর থেকে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নেন আরিফ চৌধুরী। এরপর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এছাড়া সদ্য শেষ হওয়া ঈদুল আজহায় বর্জ্য বিভাগে চাহিদা মাফিক জ্বালানি সরবরাহ না করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দুজন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না করে সেই জ্বালানি চুরির অভিযোগ ওঠে আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসক আব্দুস সালাম এবার তাকে পদচ্যুত করেন।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে সংযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ইমরান হোসাইনের অফিস আদেশ বাতিল করে তার মূল কর্মস্থল অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সিভিল সার্কেলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে একই আদেশে সহকারী পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক মামুন উদ্দিন আহম্মেদকে পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে।