ইরানে হামলার প্রস্তুতি, ইসরায়েলে আরও রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

Share

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আরও জোরদার আগে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর কথা ইসরায়েলকে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তিনজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি বৈঠকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন। এই হামলার পরিধি হরমুজ প্রণালির চারপাশে চলমান বর্তমান হামলার চেয়েও অনেক বড় হবে।

বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো সুবিধাগুলোতে বোমাবর্ষণ করা, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি হামলা চালানো এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করা, যা একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক স্থাপনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি যুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে যা ইরান সরকারকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং ট্রাম্পের পারমাণবিক শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য করার মতো যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প এই বড় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ষষ্ঠ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বন্দর আব্বাস শহরের চারপাশে অন্তত সাতটি সেতুতে বোমাবর্ষণ করেছে। এই শহরটিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অপারেশনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কর্মকর্তা আরও জানান, বন্দর আব্বাসের মাধ্যমেই মূলত গোলাবারুদ, রসদ এবং অতিরিক্ত সেনা প্রণালির অন্যান্য অংশে পাঠানো হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক এবং কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। আইআরজিসি সিরিয়ায় একটি আমেরিকান ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে, যদিও মার্কিন সেনারা কয়েক মাস আগেই সেই ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।

বর্তমানে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি সামরিক রিফুয়েলিং বিমান রয়েছে এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরেও প্রায় একই সংখ্যার বিমান অবস্থান করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাতে চায়, যা বিমানের সংখ্যাকে যুদ্ধের শুরুর দিকের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো পরিচালনা করতে বেশি পছন্দ করছে, কারণ অঞ্চলের অন্যান্য বিমানঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার জন্য বেশি উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিমানগুলোর জন্য কম নিরাপদ।

এই মুহূর্তে ইরানিরা ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে, কারণ এমনটা করা হলে তা বড় ধরনের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা ডেকে আনবে। মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমি কেবল একটি কথাই বলতে পারি, আর এটি আমি ইরানের নেতাদের উদ্দেশে বলব: আপনারা যদি আমাদের ওপর হামলা চালান, তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে বলে আশা করবেন না। আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে এমনটা ভাববেন না। কারণ এটি মোটেও আগের মতো হবে না, আর আগেরটিই ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। এটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি শক্তিশালী একটি ঘটনা।

ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমানের উপস্থিতি এখন একটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

Related Articles

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারি, ৩ বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।...

মুজাফফরের ‘সন্দেহজনক ফেইসবুক যোগাযোগ’, তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার...

রাশিয়ায় মোতায়েন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট: ইউক্রেইন

উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন...

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা সেতু...