ইরানের সঙ্গে এখনো একটি শান্তি চুক্তি করা সম্ভব: ট্রাম্প

Share

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পারদ তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর নতুন করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি এই চরম যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে এখনো একটি শান্তি চুক্তি করা সম্ভব।

চরম যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব। দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু পরে তারা বলল যে তারা এই চুক্তি করতে পারছে না ও আরও আলোচনা করতে চায়।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) রক্ষণশীল রেডিও হোস্ট হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আমরা আজ রাতে তাদের ওপর খুব শক্ত আঘাত করতে যাচ্ছি ও মঙ্গলবারও তাদের ওপর কঠোর হামলা চালানো হবে।

এদিকে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় ও আতঙ্কে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে নয় শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ঘোষণা করেছে যে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে এই নতুন ধাপের হামলা শুরু হয়, যা ছিল ইরানের ওপর তাদের টানা তৃতীয় রাতের আক্রমণ।

সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হামলাগুলোর মাধ্যমে ইরানি বাহিনীর ওপর চড়া মূল্য চাপানো অব্যাহত রাখা হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরীহ বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের আক্রমণ করার সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আঞ্চলিক মিত্র ও তেলসমৃদ্ধ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরান তাদের দুটি জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজের এক ক্রু সদস্য নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

ওমানি জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ শিপিং লেনে ট্রানজিট করার সময় আমিরাতের জাতীয় ট্যাঙ্কার ‘মম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ লক্ষ্য করে ইরান দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্স-এ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার ঠিক আগের দিনই সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ওমানে নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছিল।

হোয়াইট হাউজ এএফপি-কে নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন, যার ফলে পেন্টাগন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ওই অঞ্চলে আরও ৬০ দিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করার আইনি বৈধতা পেয়েছে।

এছাড়া নাতানজের কাছে মাটির গভীরে অবস্থিত ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র বা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন। তারা জানুক যে আমরা আসছি ও এটি ঠেকানোর কোনো ক্ষমতাই তাদের নেই।

ট্রাম্পের নির্দেশনায় সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে ও এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী সব কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি বা টোল ধার্য করবে। ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ থাকলেও অন্য সব দেশ এই প্রণালিটি ন্যায্যভাবে ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই টোলের হুমকিকে উপহাস করে এক্স-এ লিখেছেন, নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি দেওয়া পক্ষ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য- ট্রাম্পের এই কথা ঠিক, তবে তেহরান এর চেয়ে অনেক কম ফি নেবে; কারণ ২০ শতাংশ ফি অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এই টোল আদায়ের মার্কিন বিরোধিতাও করেছে ওয়াশিংটন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখন গভীর সংকটে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরানও তা অমান্য করবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তবে উত্তেজনা এড়াতে কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তেহরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন বাঘাই।

চ্যাথাম হাউজের অ্যাসোসিয়েট ফেলো বদর আল-সাইফ মনে করেন, এই হামলা কেবল একটি স্থায়ী চুক্তিকে বিলম্বিত করবে; কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের শর্তে অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে চাইছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন ও বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বে অন্তত চারটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এ পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র সতর্ক করে জানিয়েছেন, তারা কেবল উপসাগরে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছেন, তবে কোনো উপসাগরীয় দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, তবে তাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে গণ্য করা হবে।

Related Articles

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারি, ৩ বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।...

মুজাফফরের ‘সন্দেহজনক ফেইসবুক যোগাযোগ’, তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার...

রাশিয়ায় মোতায়েন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট: ইউক্রেইন

উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন...

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা সেতু...