রাজধানীর নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটসংলগ্ন সড়কে টানা ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও পুরোপুরি পানি নামেনি। রোববারের (১২ জুলাই) ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার রেশ সোমবার সকালেও রয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে পরিমাণ জলাবদ্ধতা ছিল সোমবার তা অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববারের বৃষ্টিতে নীলক্ষেত মোড়ের কিছুটা সামনে থেকে কুয়েত মৈত্রী হলের গেট পর্যন্ত সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। রাত ১০টার পর থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে। তবে অন্য সময়ের মতো ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক শুকিয়ে যায়নি।
২৪ ঘণ্টা পরও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পানি কিছুটা নেমে যাওয়ায় আজিমপুর কবরস্থানের বিপরীত পাশের আইয়ুব আলী কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে।
রোববারের জলাবদ্ধতায় কলোনির সড়ক ও কয়েকটি বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছিল। তবে সোমবার সকাল থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সোমবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে জমে থাকা পানি ঠেলে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করছে। পানির কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
রোববার পানি বেশি থাকায় যাত্রী পারাপারে ভ্যানই ছিল প্রধান ভরসা। সেদিন ভ্যানচালকেরা জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া নিয়ে মানুষ পারাপার করেন। তবে সোমবার আর কোনো ভ্যানচালককে দেখা যায়নি। সড়কের যেসব অংশ থেকে পানি নেমে গেছে, সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের বিটুমিন ও পাথরের স্তর উঠে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনে জমে থাকা প্লাস্টিক ও আবর্জনাও পানি দ্রুত নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে।
কুয়েত মৈত্রী হলের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করছিলেন তিন শিক্ষার্থী। তারা জাগো নিউজকে জানান, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে ব্যাটারিচালিত যান ব্যবহার করেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই সেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে।
আইয়ুব আলী কলোনির একাধিক বাসিন্দা জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিউমার্কেটের এই সড়কটি আমাদের জন্য যেন অভিশাপ হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। রাস্তা ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। তাহলে প্রতিবছর রাস্তা সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে কেন?
তাদের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের কথা বলা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান চান এলাকাবাসী।