খুলনায় অনুষ্ঠিত এক বিভাগীয় সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেছেন যে, বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ১১ দলীয় জোটকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্য নিয়ে এই নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক চাল ও চক্রান্তের কারণে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার গঠন সম্ভব হয়নি।
শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং মানুষের ভোগান্তি কমানোর দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দেয় ১১ দলীয় ঐক্যজোট।
সমাবেশে এলডিপি প্রধান অভিযোগ করেন, দেশে যারা ইসলামি আদর্শ, নৈতিকতা ও সুশাসনের পক্ষে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে উগ্রপন্থী বা মৌলবাদী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য অমঙ্গলজনক। তিনি বলেন, বর্তমানে জনকল্যাণ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে অলি আহমদ জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়নি, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছিল। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকবে না, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রশাসন ও বিচার বিভাগে এখনও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। জনগণের চাওয়া অনুযায়ী সঠিক সংস্কার সম্পন্ন করতে না পারলে জাতীয় সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
একটি ন্যায় ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের আহ্বান জানান এলডিপি সভাপতি। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর দেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন এবং প্রয়োজনে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি রাখার কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।