অভিন্ন প্রশ্নে চলা এইচএসসি পরীক্ষায় রসায়নের পর এবার জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নে ‘অসঙ্গতি’ ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ।
বুধবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষাটি হয়েছে।
ওই পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নে তিনটি নৈর্ব্যক্তিক ভুল ছিল। বাংলা সংস্করণের থেকে ওই তিনটি প্রশ্ন ছিল ভিন্ন, যেগুলো বিভ্রান্ত করেছে ইংরেজি সংস্করণের পরীক্ষার্থীদের।
এরআগে গত ১৯ জুলাই রসায়ন প্রথম পত্র পরীক্ষায় ইংরেজি সংস্করণের সৃজনশীল অংশের চার পূর্ণমানের একটি প্রশ্নে অসঙ্গতি ছিল, যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছিলেন ইংরেজি সংস্করণের পরীক্ষার্থীরা।
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র প্রশ্নের ‘অসঙ্গতি’ নিয়ে নটরডেম কলেজের পরীক্ষার্থী তাহমিদ তাজওয়ার বলেন, “ইংরেজি ভার্সনের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের তিনটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ভুল ছিল, ‘গ’ সেট অনুযায়ী সেগুলো ১৫, ১৮ ও ২৫ নম্বর।
“মনে হয়েছে বাংলা প্রশ্ন ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করার সময় বিভ্রাট ঘটেছে। ট্রান্সলেশন অসম্পূর্ণ ছিল, যা প্রশ্নগুলোকে বিভ্রান্তিকর করেছে। আমরা ইংরেজি ভার্সনের সব পরীক্ষার্থীকে ওই তিন নম্বর দিতে বোর্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ ২৫ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিকে তিনটি ভুল প্রশ্ন আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণ হবে।”
এ পরীক্ষার্থীর ভাষ্য, ইংরেজি সংস্করণের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক অংশে ‘গ’ সেটের ১৫ নম্বর প্রশ্নে দুইটি কোষের ছবি তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয় ‘বি’ কোষের জন্য কোনটি প্রযোজ্য হবে। তিনটি নমুনা উত্তরের দ্বিতীয়টিতে বলা হয়ে ‘রিমেইন্স ইন’। তবে বাংলা সংস্করণের প্রশ্নে ওই নমুনা উত্তরটি ছিল ‘বহিত্বক ও অন্তত্বকে অবস্থান করে’।
ইংরেজি সংস্করণের ওই সেটের ১৮ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয় ‘ইন প্রবলেম অব-’। যদিও বাংলা সংস্করণে প্রশ্নটি ছিল ‘মায়োপিয়া সমস্যায়-’ অর্থাৎ মায়োপিয়া সমস্যায় কি হয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ইংরেজি সংস্করণের ওই প্রশ্নটিতে খোদ ‘মায়োপিয়া’ শব্দটি বাদ পড়ে গেছে।
ইংরেজি সংস্করণের ওই সেটের ২৫ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয় ‘হোয়াট ইজ দ্য প্রসেস অব স্পার্ম প্রডাকশন ফর্ম?’ প্রশ্নটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। যদিও বাংলা সংস্করণের প্রশ্নটি ছিল ‘স্পার্মাটিড থেকে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?’ ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নে ‘স্পার্মাটিড’ শব্দটি বাদ পড়েছে।
পরীক্ষার্থী তাহমিদ তাজওয়ার বলেন, “পরীক্ষার হলে আমরা এই তিনটি ভুল প্রশ্নে বিভ্রান্ত হয়ে যাই৷ অনেকটা আন্দাজেই উত্তর করি। তবে বাসায় ফিরে বাংলা ভার্সনের প্রশ্ন দেখে ওই প্রশ্নগুলো বুঝতে পেরেছি।”
জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “ইংরেজি সংস্করণের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রে কিছু নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ভুল ছিল বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসছি। তারা নিরূপণ করবেন আসলেই ভুল ছিল কী-না।”
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, “ছয়জন বিশেষজ্ঞ বসেছেন। ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে কোন ভুল থাকলে তারা তা উল্লেখ করে রাতের দিকে প্রতিবেদন দেবেন। শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
প্রশ্নগুলো ভুল বলে বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে উঠে এলে ইংরেজি সংস্করণের পরীক্ষার্থীরা ওই তিনটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য নম্বর পাবেন, এমন ইঙ্গিত দিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের পরীক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তাদের জন্য যা ভালো হয় সেটিই করা হবে।”