ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা সামরিক সরঞ্জামের মজুদ কমে যাওয়ায় অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উপকরণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাগিদ দিচ্ছে পেন্টাগন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলের বিবৃতির বরাতে আল আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা কেনাকাটা ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পার্নেল জানান, সম্প্রতি এ প্রক্রিয়া গতিশীল করার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এটি পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের আগে থেকেই শুরু হওয়া আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টার অংশ।
চিঠিতে ফেইনবার্গ লেখেন, “বছরের পর বছর ধরে উন্নয়ন প্রক্রিয়া চালানো আর গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের এখনই কর্মসূচির সময়সূচিতে গতি আনতে হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”
পেন্টাগনের মুখপাত্র পার্নেল নিশ্চিত করেন, এই জরুরি নির্দেশ ২০২৮ অর্থবছরের বাজেটে অর্থায়নের প্রস্তাব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের ভিত্তি পুনর্গঠনে সরকারের মূল প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানি হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এর ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সেনা ও তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ২৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির সময় তা কমে দাঁড়ায় ১০৩০টিতে। সম্প্রতি লড়াইয়ের পর এ সংখ্যা কমে ৮২৭ থেকে ৭৫৯টির মধ্যে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধপূর্ব অবস্থার তুলনায় অন্তত ৬৫ শতাংশ কম।
যুদ্ধের আগে থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল ৪৫২টি। এপ্রিলে তা কমে ২৬২থেকে ২৩২টির মধ্যে নামে। পরবর্তীতে কিছুটা মজুত বাড়ানো হলেও বর্তমানে তা ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে আটকে আছে, যা আগের চেয়ে অন্তত ৩৮ শতাংশ কম।
গবেষকদের মতে, মজুত কমে যাওয়ায় আকাশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের ঝুঁকি বেশি নিতে হতে পারে। যেমন, ইরান থেকে আসা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে আগের চেয়ে কম সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হতে পারে, আর এতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লাগার ঝুঁকি থেকে যায়।
অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্র আছে আর প্রয়োজন অনুযায়ী তা তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে রেকর্ডসংখ্যক প্রতিরক্ষা কারখানা তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে পেন্টাগনের এ ব্যয়ের বিপরীতে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে নতুন প্রতিরক্ষা বাজেট পাস আটকে রয়েছে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাট সেনেটররা হোয়াইট হাউজের চাহিদা অনুযায়ী বাজেট গত বছরের ৯০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবে সায় দিচ্ছেন না।