লোহিত সাগরের দুটি প্রধান সৌদি তেল বন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল শনিবারের এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক বিপজ্জনক ধাপে রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরের ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল লোহিত সাগরেও। এতে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম লাগাম ছাড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১২৮ ডলারে পৌঁছেছিল। আর ২০০৮ সালে তা ছুঁয়েছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারের ঘর। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সুরাহা না হলে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ ডলার হতে পারে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, তারা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জিজানের চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার এলাকা থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এশিয়াভিত্তিক তেলের ব্যবসায়ীরা জিজানের জ্বালানি মজুতাগারের ক্ষতির তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে সৌদির প্রধান তেল রপ্তানিকারক বন্দর ইয়ানবু লক্ষ্য করে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদির তেল সরবরাহের প্রধান বিকল্প পথ।
হুতি হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মারিব, আল-জফ এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী হোদেইদাহর টেলিকম অবকাঠামো, কামারান দ্বীপ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী।
ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে চলা অস্ত্রবিরতি ভেঙে দুই পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব এ যুদ্ধে জড়ালে তাদের সব তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।