কুয়েতে আবাসন সংকট ও কাজ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশিরা

Share

কুয়েতের জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের যৌথ নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং একাধিক সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে কুয়েত সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, কুয়েত ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অংশ নেয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযানে মূলত অনিরাপদ ও অবৈধ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধ দখলদারিত্ব, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আকামা (বসবাসের অনুমতি) লঙ্ঘনকারী, পলাতক ব্যক্তি এবং আবাসিক এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এরই মধ্যে আইন লঙ্ঘনকারী ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা জারি করা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অনিরাপদ ভবনগুলো থেকে সরিয়ে আনা পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ সতর্ক করে বলেন, এই অভিযানটি একটি দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। জিলিব আল-শুয়ুখ দিয়ে শুরু হলেও কুয়েতের সকল অঞ্চলেই এই অভিযান চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না। জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনে বিপজ্জনক ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিলিব আল-শুয়ুখ অঞ্চলটিকে নতুনভাবে পরিকল্পিত সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার আবাসিক ভবন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সরকারি লাইসেন্স নবায়ন ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেয় কুয়েত সরকার।

কর্মস্থলে যাতায়াত সহজ এবং বাসা ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও অনেকেই আবাসন সংকটের কারণে যেতে পারেননি।

বুধবার রাতের অভিযানে হঠাৎ বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের প্রবাসীদের থাকার জায়গা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতেও; রাতারাতি সেখানকার বাসা ভাড়া ও সিট ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

ফলে অনেক প্রবাসী নতুন বাসস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না। থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। আবাসন সংকটের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাওয়া এবং কাজ হারানোর ঝুঁকিতেও পড়েছেন অনেকে।

 

Related Articles

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান, আটক ১৬৪ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী আরও একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন...

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন: ইরান

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ শুরু

ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে  শনিবার...

পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার নব নিযুক্ত মন্ত্রীর

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলের স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব...