দুর্বল হয়েছে লঘুচাপ, তবে বৃষ্টি থাকবে আরও কয়েক দিন

Share

ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও ওই এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ‘দুর্বল হয়ে লঘুচাপে রূপ নিয়েছে’ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তবে, দেশজুড়ে যে বৃষ্টি ঝরছে, তা সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা।

ঢাকায় বিরামহীন বৃষ্টি শুরু হয় বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে। সে বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, “ঢাকায় গতকাল থেকে আজকে পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে, তবে পরিমাণে কিন্তু কম। যেমন গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিন্তু কম, এদিকে আবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত কিন্তু আমাদের চিটাগাংয়ে।”

এমন বৃষ্টিপাত আর কয়দিন চলতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত এমন বৃষ্টি চলবে। এরপর বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে। লঘুচাপটা এখন স্থলে আছে। আস্তে আস্তে ওটা দুর্বল হচ্ছে এবং পরে এটি পুরোপুরি গুরুত্ব হারাবে। সেক্ষেত্রে সংকেতটা আরও দুই-তিন দিন বহাল থাকবে।”

এদিকে শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার সবশেষ পরিস্থিতি বিষয়ক এক বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরেকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ভারি বর্ষণজনিত এক সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থায় বিরাজমান আছে।

এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

এই সময়ে সারাদেশে দিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

এছাড়া, সাতক্ষীরায় ১৭৯, গোপালগঞ্জে ১৬৩, আমবাগানে ১৫৩, তাড়াশে ১৩৮, টাঙ্গাইলে ১২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া, দেশজুড়েই কম-বেশি বৃষ্টি ঝরেছে।

এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে; ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে; ২৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Related Articles

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারি, ৩ বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।...

মুজাফফরের ‘সন্দেহজনক ফেইসবুক যোগাযোগ’, তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার...

রাশিয়ায় মোতায়েন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট: ইউক্রেইন

উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন...

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা সেতু...