ডেঙ্গুতে মানুষ মরে, ব্যাংক-ব্যালেন্স বাড়ে মিজানের

Share

মশা নিধন এখন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। কীটনাশকের নামে সিটি করপোরেশনে সরবরাহ করা হয় কেরোসিন। টেন্ডার প্রক্রিয়া, কীটনাশক পরীক্ষা, অবৈধ লেনদেন—সবকিছুই মিজান চক্রের নিয়ন্ত্রণে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহে একক আধিপত্য তার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ‘মশা নিধন’ বাণিজ্যের নামে অফিস পিওন থেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে গেছেন মিজান।

ডেঙ্গুতে মানুষ মরে, আর মশা নিধনের নামে মিজান চক্রের কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলে। অনুসন্ধান বলছে, প্রতারণা ও মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে বিগত দিনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত মিজানুর রহমানের ‘দি লিমিট এগ্রো’। ২০১১ সালে তাদের সরবরাহ করা কীটনাশকের ৯৫ শতাংশই ছিল ভেজাল। ২০১৯ সালে আবারও ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত হয় তারা।

সময় সংবাদের হাতে আসা নথিপত্র বলছে, এরপর খোলস পাল্টে ফেলে মিজান চক্র। ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে খোলে নতুন প্রতারণার দোকান। আর সে দোকানের আড়ালেই উত্তরে কালো তালিকাভুক্ত মিজান চক্র বর্তমানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কীটনাশক সরবরাহ করছে।

বারবার ধরা পড়ার পরও কীভাবে বছরের পর বছর ধরে সিটি করপোরেশনে কীটনাশক সরবরাহ করছে চক্রটি, জানতে মিজানের মুখোমুখি আমরা। সিটি করপোরেশনের পিওন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কীটনাশক সরবরাহের নামে চলা অবৈধ বাণিজ্যের ভাগ দিতে হয় সবাইকেই। অকপটেই যা স্বীকারও করলেন মিজান।
তিনি বলেন, ‘ওখানে এটাকে ঘুষ বলে না। যাদের দিই তারা হলেন পিওন-কেরানি, অ্যাকাউন্টস। যতবারই চেক নেবেন ততোবারই তাদের একটা নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ দিতে হয়।’

প্রতিবছর ডেঙ্গুতে হাজার হাজার মানুষ মরলেও এমন মশা নিধন বাণিজ্য মিজানকে যে অফিস পিওন থেকে জিএম, এমনকি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক বানিয়েছে— তাও স্বীকার করেন তিনি। এরপরই টাকার বিনিময়ে সময় সংবাদকে ম্যানেজেরও চেষ্টা চালান মিজান।
তাহলে মশা নিধনের নামে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকার ভাগের জন্যই কি উত্তরের কালো তালিকাভুক্ত মিজান চক্রের থেকে কীটনাশক নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন? জানতে এবার প্রধান ভান্ডার কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীনের মুখোমুখি আমরা। তার দাবি, মিজান চক্রের অতীত কর্মকাণ্ড জানেন না তারা।
জয়নুল আবেদীন বলেন, মিজান কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন, সেটি আমাদের জানা নাই। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যও আমাদের কাছে নাই। আর ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ করা সম্ভব না। কারণ পরীক্ষা করেই কীটনাশক নেয়া হয়। আমরা ব্যক্তিকে চিনে কীটনাশক নিই না। পণ্যের মান দেখে নিয়ে থাকি।

বিতর্কিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে পরীক্ষার দোহাই দিয়ে কীটনাশক নিচ্ছে সিটি করপোরেশন, সে পরীক্ষাই বা কতটুকু স্বচ্ছ? নাকি সেখানেও আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। এবার সে প্রশ্নেরই উত্তর মেলাতে চাই আমরা।
ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর, সিটি করপোরেশনের মশা নিধনের কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষার সবকিছুর আয়োজন করে দেয় তারা। গোমর ফাঁস করতে শুরু করেন দফতরটির স্টোরকিপার গিয়াস উদ্দিন। পরীক্ষার সময় কীটনাশক আর পরীক্ষার পর কৌশলে সরবরাহ করা হয় শুধুই কেরোসিন।

কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহ করে হাতানো কোটি কোটি টাকার ভাগ মেলে দপ্তরটির কর্মকর্তাদেরও।

স্টোরকিপার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এখানে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। তারা টাকা অফার করে। আমি মানুষ ছোট হলে কী হবে, আমার অফিসে পাবলিক কোনো ফাংশন নাই। আমি যেখানে বসি সেখানে কোনো পাবলিক আসতে দেখছেন? অথচ আমি আইফোন চালাই।

উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত মিজান চক্র দুই বছরে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহের কাজ পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে।
সূত্র: সময় সংবাদ
Related Articles

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান, আটক ১৬৪ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী আরও একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন...

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন: ইরান

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ শুরু

ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে  শনিবার...

পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার নব নিযুক্ত মন্ত্রীর

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলের স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব...