গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নিজের তিন কারখানায় জুন-জুলাইয়ে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ২১৪ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতা সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
তার ভাষ্য, আগের তুলনায় ব্যবহার বেড়েছে ৩৯০ শতাংশ।
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে আমদানিকারকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শিরোনামে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর মনে করেন, সরকারের অপেক্ষায় বসে থাকলে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত আজকের জায়গায় দাঁড়াত না।
“আমরা সরকারের অপেক্ষায় না থেকেই নিজেদের উদ্যোগেই কাজ করি,” বলেন তিনি।
তার কোম্পানির কারখানাগুলো টেক্সটাইলের মতো জ্বালানিনির্ভর নয় মন্তব্য করে নাসিম মঞ্জুর বলেন, “আমরা খুব ছোট কারখানা। টেক্সটাইলের মতো এনার্জি ইনটেনসিভ না। আমাদের মতো ছোট জুতার কারখানায় যদি ৩৯০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে।”
জ্বালানি সরবরাহ কম থাকলে শিল্প খাতকে আগেই সময়সূচি জানিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “সবাইকে আপনি সবসময় বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না। তাহলে কখন (সংকট) বাড়বে, আমরা সেভাবে সমন্বয় করব।
“আমরা যদি জানি, রাত ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, তাহলে আমরা আমাদের প্রোডাকশন শিফট করব। কিন্তু কখন পাব, এই নিশ্চয়তাটা আমাদের দিতে হবে।”
চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার প্রভাব রপ্তানি বাজারেও পড়ছে বলে তার ভাষ্য।
তিনি বলেন, “ক্রেতার আত্মবিশ্বাসটা একটু কমছে। তারা বলছে, ‘তোমরা কী প্ল্যান দেখাবে আমাদেরকে, যে তোমরা নিশ্চিত করতে পারো নেক্সট সিজনে, নেক্সট অর্ডারে?”
ভিয়েতনামে শ্রমিক সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জ্বালানির অনিশ্চয়তা থাকলে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো সেই সুযোগ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।