ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলায় রাশিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে সরবরাহকৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ। একই সঙ্গে মস্কো শান্তির দিকে না হেঁটে যুদ্ধ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সতর্কবার্তা দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, চার বছরের আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যে হাজার হাজার সৈন্য ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছেন। এখন পিয়ংইয়ং থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা পাচ্ছে মস্কো।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, কিয়েভের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই রাশিয়া এই সুযোগ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই হামলায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন ও গাইডেড বোমা হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। নিহতদের সবাই স্থানীয় জাপোরিঝস্টাল ইস্পাত কারখানার কর্মচারী। বিমান হামলার সতর্কতা শুনে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথেই তারা হামলার শিকার হন। এ ছাড়া দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও ছয় জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কিয়েভের একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও খেরসন ও খারকিভে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক শিল্প ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হিসেবে রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত ও গুদামে আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর।