ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেইট মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু থাকার খবরে ছড়ালেও পুলিশ গিয়ে তেমন কিছু পায়নি।
শনিবার দুপুর ১২টার পর ‘বোমা সদৃশ’ বস্তুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।
সংস্থার এক দায়িত্বশীর কর্মকর্তা বলেন, মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনের নিচে থাকা ব্যাগে জর্দার কৌটা ও পান ছিল। আর ফার্মগেইট স্টেশনের নিচে থাকা বস্তাটি আসলে খালি ছিল।
এদিকে ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মেট্রো স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু থাকার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনো বস্তু মেলেনি।
মিরপুরের ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করলে এর ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি ইমেজ দেখা যায়। পরবর্তীতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে নিরাপদে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ব্যাগটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান ছিল।”
ফার্মগেইটের ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি বলছে, পরিত্যক্ত বস্তা ঘিরে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়।
এর আগে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেছিলেন, “একসঙ্গে দুই জায়গায় বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, মিরপুর ও তেজগাঁওয়ে। আমাদের টিম কাজ করছে।”
ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, “মিরপুর মেট্রো স্টেশনের নিচে যে ব্যাগটা পাওয়া গেছিল, সেটিয়ে তেজস্ক্রিয় কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। ওখানে বেশ কয়েকটি জর্দার কৌটা ছিল। আপাততদৃষ্টিতে মনে হয়েছে ককটেলের মতো কিছু।”
বোমা সদৃশ্য বস্তুর খবর পাওয়ার পর থেকে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে গেল ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা। ওই বোমাটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা হয়েছিল।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছিল ডিএমপি। পরে বোমটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।