প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের অবসর নেওয়ার বয়স বাড়ানোসহ নিজেদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিনী এ মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কলেজের ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের (ডিএমসিয়ান) ভাবনা শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘‘ইউকেতে (যুক্তরাজ্যে) চিকিৎসকদের বয়স হচ্ছে ৬৫/৬৭। আমরা ৫৯ এ চলে যাই, ৫৯ এখন কোনো বয়স না। আপনি জানেন যে আমাদের গড় আয়ু বেড়ে গেছে।
“আমার মনে হয়, বিশেষ করে চিকিৎসকদের বেলায় যদি এই জিনিসটা (বয়স) একটু চিন্তা করতে পারতেন খুব ভালো হত। কারণ তারা আরো ভালো সেবা দিতে পারতেন।”
লিটন বলেন, ‘‘আমরা জানি আপনার মাথায় কী আছে হেলথ সম্পর্কে। আমরা জানি যে কী আছে।”
তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি বললেন যে, আমার মাথায় হেলথ সম্পর্কে কী আছে? আমার মাথার মধ্যে হেলথ নাই। আমার মাথার মধ্যে উনি (জুবাইদা রহমান) আছেন।”
এ সময় পুরো মিলনায়তনে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ দিবস উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জুবাইদা ডিএমসির ৪৩তম ব্যাচের এমবিবিএস শিক্ষার্থী ছিলেন।
কে-৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. আহমেদ এহসানুর রহমানের সঞ্চালনায় ৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদিয়া তাসনীম ১৯০৪ সালে নির্মিত মেডিকেল কলেজ ভবন আধুনিকায়নের দাবি জানান। বলেন, “ভবনের বিভিন্ন অংশ ইতমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।”
হোস্টেলের নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করায় সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের হাসপাতালের ভবনটি নির্মাণের যে প্রকল্প সেটারও দ্রুত উদ্বোধন এবং বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।”
একই সঙ্গে তিনি কলেজের ‘ক্লিনিক্যাল ক্লাসে’ শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় তাদের পাঠদানে অসুবিধার কথা তুলে ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা বর্তমানের ২৩০ বা ২৪০ থেকে কমিয়ে ১৫০ বা এর চেয়েও কম করার অনুরোধ করেন।
তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জোহায়ের ইসলাম স্মরণ মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিদেশের পাঠ্যক্রমের উদাহরণ দিয়ে বেসিক, প্যারা ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের সমন্বয় ঘটানোর কথা বলেন।
তিনি সপ্তাহের ছয় দিন মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের ঠাসা শ্রেণি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার প্রস্তাব দেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডাক্তার সাহেব আপনাদের এই রুটিনটার সাথে আমি পরিচিত।”
শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি এখানে যারা শিক্ষক আছেন তারা বিবেচনা করবেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘সপ্তাহে সাত দিন আমিও কাজ করি।”