রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে এক পাক্ষিক ও ভুল তথ্য নির্ভর দাবি করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে মিয়ানমার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের আগস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সমন্বিত হামলা চালায়। এসব ঘটনার পর দেশটির সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
এর ফলে স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষ অন্য এলাকায় চলে যায় এবং বিপুল সংখ্যক বাঙালি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
মিয়ানমারের দাবি, এআরএসএ হামলার আগে রাখাইনের বুথিডং, মংডু ও রাথেডং এলাকায় ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বাঙালি বসবাস করতেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে থাকা সব ক্যাম্পবাসী মিয়ানমারের নাগরিক-এমন দাবির সঙ্গে তারা একমত নয়। একইভাবে বিভিন্ন দেশে যাওয়া ‘বোট পিপল’দের মিয়ানমারের কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।
মিয়ানমার আরও দাবি করেছে, ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালের অভিবাসন যাচাই কার্যক্রমের সময় রাখাইন থেকে কিছু বাঙালি বাংলাদেশে চলে এসেছিল। তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ১৯৭৮-৭৯ সালে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ জন এবং ১৯৯২-২০০৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জনকে মিয়ানমার গ্রহণ করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, যাচাইকৃত ও রাখাইনের সাবেক বাসিন্দাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘কাম অ্যান্ড সি’ সফর, বাংলাদেশে ‘গো অ্যান্ড টক’ সফর, সরেজমিন যাচাই এবং পাইলট প্রকল্পের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমার জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের গ্রহণ করা হবে। দেশটি বলেছে, প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমাধানযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং এ ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণে তারা অসন্তুষ্ট। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।