নতুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ পয়েন্ট বেড়েছে, আগের পাঁচ বছরেও তা বাড়েনি বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজারে ‘স্বচ্ছতা’ এবং বিনিয়োগকারীদের ‘আস্থা ফেরায়’ এই ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশীয় বিনিয়োগকারী ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি বিদেশি ফান্ড ম্যানেজাররাও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ‘আগ্রহ দেখাচ্ছেন’।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কামরুল হাসান বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘দলান্ধ’ ও ‘অসৎ’ ব্যক্তিদের বিএসইসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং কমিশনের সদস্যদের যোগসাজশে শেয়ারবাজারে ‘কারসাজি’ হয়েছে বলে জনমনে ধারণা রয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা হবে কি না এবং আগের কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
নতুন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, আরেকজন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের কাউকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
নতুন কমিশনের সদস্যদের পেশাদার হিসেবে বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তারা শেয়ারবাজার ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ভালো। তাদের সততা নিয়েও সরকারের কোনো প্রশ্ন নেই।”
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে দাবি করে তিনি বলেন, “গত দুই মাসে শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ পয়েন্ট বেড়েছে, আগের পাঁচ বছরেও সেই পরিমাণ বাড়েনি।”
হংকং, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের পুঁজিবাজারের ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছেন এবং বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, বলেন আমির খসরু।
আস্থা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক মানের বাজারে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাজারের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে এর প্রাথমিক সফলতা দেখা যাচ্ছে।”