ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউয়ায় রেললাইনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোস্তাক আহম্মেদ (৪১) নামে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় আহত মোস্তাক আহম্মেদ বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর দিকের আউটারে রেলওয়ে পূর্ব কলোনির লোকমানের টং দোকানের সামনে চট্টগ্রাম-সিলেট রেললাইনের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোস্তাক আহম্মেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চাপুইর গ্রামের আমির আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাক আহম্মেদ ঢাকায় থেকে আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসে রাত ২টা ৪৫ মিনিটে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে নামেন। রাত গভীর হওয়ায় তিনি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকেন। পরে ফজরের আজান হলে রেললাইন দিয়ে হেঁটে বাইপাস রেলগেটে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদয় মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন ব্যক্তি ধারালো চাকু ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তার হাতে থাকা বড় মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মোস্তাক বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার গলায় চাকু ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখায়।
এজাহারে বলা হয়, টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে মানিব্যাগটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে উদয় মিয়া চাকু দিয়ে মোস্তাকের ডান হাতের কব্জির নিচে তালুর পেছনের অংশে আঘাত করেন। এতে তার হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে তার কাছ থেকে মানিব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
মানিব্যাগে একটি ভিভো ওয়াই-১১ মডেলের মোবাইল ফোন, যার মূল্য ১৬ হাজার ৯৯৯ টাকা, এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত অবস্থায়ও মোস্তাক প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তার মুখের বাম পাশে চোখের নিচে, বাম বাহুর কনুইয়ের ওপর ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।