দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে যা বললেন রাহুল গান্ধী

Share

নয়াদিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জের কঠোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এটি কোনো গণতান্ত্রিক উপায় হতে পারে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা চালান ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায় দিল্লি পুলিশ।

এ নিয়ে এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, তরুণরা যা করছে তাতে কোনো ভুল নেই। তবে সরকার ও পুলিশ যে আচরণ করছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালানো মোটেও কোনো ভারতীয় পদ্ধতি হতে পারে না।

এই ভিডিও বার্তার সঙ্গে পুলিশের পদক্ষেপ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ভিডিও শেয়ার করেন এই বিরোধী নেতা। তিনি বলেন, দিল্লির রাজপথে নেমে আসা তরুণ-তরুণীরা কোনো অপরাধী নয়। তারা কেবল একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান

রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, দেশটির একটি বিশাল অংশই তরুণ জনগোষ্ঠী। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে চলছে তাতে সবাই চরম বিরক্ত। আরএসএস যেভাবে শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে, তা নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, তরুণদের এই প্রতিবাদকে সরকারের সম্মান জানানো উচিত।

যেভাবে শুরু হলো আন্দোলন

সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ভারতের তরুণ সমাজ। এ ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি।

আন্দোলনের ২১তম দিনে গত ১৮ জুলাই অনশনরত অবস্থায় বিশিষ্ট অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। বর্তমানে তিনি দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে এই লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়। সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, তরুণ নেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট।

বিক্ষোভকারীদের আটকাতে পুরো এলাকা একাধিক স্তরে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী। মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য দিল্লির বেশকিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আন্দোলনকারী নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে একটি লিখিত স্মারকলিপি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজপথ ছেড়ে জনগণকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করার জন্য বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Related Articles

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান, আটক ১৬৪ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী আরও একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন...

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন: ইরান

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ শুরু

ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে  শনিবার...

পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার নব নিযুক্ত মন্ত্রীর

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলের স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব...