কক্সবাজারে পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ, পানিতে তলিয়ে গেছে ১৫০টি গ্রাম

Share

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নতুন গঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। এ ছাড়া জেলা সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

এর মধ্যে শুক্রবার সকালে চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ১২ বছরের এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরইতলী ইউনিয়নের রাসুলাবাদ এলাকায় নৌকায় করে বন্যার পানি পার হওয়ার সময় তিন বোন পানিতে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল এসে তল্লাশি চালায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তার দুই বোন সাওরিন মনি ও জেরিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাসপাতালে যেতে পারছেন না অনেক রোগী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাণিজ্যিক মাছের ঘেরের কারণে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বেড়ি বাঁধের দুটি অংশ ধসে যায়। এতে জোয়ারের পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বৃষ্টির তীব্রতা কমায় পানি কিছুটা নেমেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার একাধিক ক্যাম্পের মাঝি (নেতা)।

তবে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় ক্যাম্পের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

Related Articles

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান, আটক ১৬৪ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী আরও একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন...

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন: ইরান

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ শুরু

ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে  শনিবার...

পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার নব নিযুক্ত মন্ত্রীর

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলের স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব...