টানা ভারি বৃষ্টির মধ্যে বান্দরবানের লামা এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
লাগোয়া দুই উপজেলায় বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
লামায় এক ঘটনায় মারা গেছেন জুয়েল (২৮) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (২২)। আরেক ঘটনায় মারা যান ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু বেগম (২২) এবং তাদের চার বছর বয়সি সন্তান সোলায়মান। তারা সবাই আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়ার বাসিন্দা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন বলেন, “প্রথম ঘটনা রাতে ঘটেছে। অন্য আরেকটার ঘটনা ভোরের দিকে ঘটেছে। দূরে হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস লামা থেকে নিয়ে আসা হয়নি।
“চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া এলাকার চুনতি থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে লাশ উদ্ধার করেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে দুপুরে জানাজা হবে।”
মোবারক সকাল ১০টার দিকে বলেন, এর আগে ২০০৯ সালে লামায় একবার এবং ২০১৬ সালে আরেক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তখন অনেক মানুষ মারা গেছে।
“কিন্তু এই মিশনপাড়া এলাকায় এর আগে কখনও ঘটেনি। আজকেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভাল নয়। এখনো গুড়ি গড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।”
কাছাকাছি সময়ে দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় আজিজরগর এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে বলে জানান তিনি।
লামা থানার ওসি কায়ছার হামিদ বলেন, উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই পরিবারে পাঁচজন মারা গেছেন।
“প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে। এতে এক পরিবারে দুজন নিহত হয়। পরে ভোর চারটায় আরেকটা পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়।”
তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লামা উপজেলার কোথাও টেলিটক নেটওয়ার্ক নেই। এ কারণে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে।”
এদিকে লামা উপজেলা লাগোয়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, বড়ইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড় ধসে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।