টানা বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে; এতে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-‘এ’তে মেয়েদের একটি হিফজ খানার (মাদ্রাসা) ওপর পাহাড় ধসে পড়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক।
তবে আহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি আরআরআরসি। তিনি বলেন, “কতজন আহত হয়েছেন, সেটি এখনই বলতে পারছি না।”
ঘটনার পরপর ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝি (নেতা) দিল মোহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
দিল মোহাম্মদ বলেন, ভূমিধসের সময় হিফজ খানার ভেতরে ৩০ জনের বেশি ছাত্রী ছিল। “এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।”
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচজনের লাশ উদ্ধারের কথা জানতে পেরেছি। উদ্ধার কাজ চলছে, তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।”
রোহিঙ্গা মাঝি দিল মোহাম্মদ বলেন, “উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হিফজ খানার ভেতরে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”
এর আগে রোববার রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে আলাদা পাহাড় ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।