সিরিয়ায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি বিমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। তিনি এই হামলাকে ‘উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইল সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘চরমপন্থী ও অবিশ্বস্ত ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেন।
গোলান আরও বলেন, নেতানিয়াহু ‘ইসরাইলের প্রতি আস্থা ক্ষয় করছেন’। তার মতে, এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে, রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য ‘আরেকটি যুদ্ধ’ তৈরি করবে না।
হামলা চালানোর পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, দামেস্ক ওই ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ইসরাইল বারবার সতর্ক করেছিল, এমন পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে বলেও জানান তিনি। তবে সিরিয়া ইসরাইলের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ অধিদপ্তর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার ওই সামরিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যা ভিত্তিহীন।
তুরস্কের দাবি, ইসরাইলের এমন বক্তব্যের পেছনে রয়েছে নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক ‘সম্প্রসারণবাদী ও অস্থিতিশীলতামূলক নীতি’ অব্যাহত রাখার চেষ্টা। দেশটিতে নির্বাচন সামনে রেখে এসব পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে আঙ্কারা।
তুরস্ক বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ‘টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার’ পক্ষে। তবে এ জন্য নেতানিয়াহুকে আগ্রাসী নীতি পরিত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।
আঙ্কারার যোগাযোগ অধিদপ্তর আরও জানায়, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে বৈধ ও দায়িত্বশীল ভিত্তিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে তারা ‘কখনোই অনুমতি দেবে না’।
সূত্র: সময় সংবাদ