তৃণমূলের ব্যাংক হিসাবে বেআইনি অর্থ

Share

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনে মুখে পড়ার পর এবার ব্যাংক হিসাবের অর্থ নিয়ে ‘সত্যিকার অর্থেই’ বিপদে পড়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বানের মধ্যেই এবার অন্তত তিনটি হিসাবে বেআইনিভাবে অর্থ আসার অভিযোগ উঠেছে।

এ খবর দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে তদন্ত দাবি করেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক। পুলিশ এই তিন ব্যাংক হিসাবে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগকারী বিধায়ক তৃণমূলের ভাঙনে ‘নেতৃত্ব দেওয়া’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের একজন। দলের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আরও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কও পুলিশের কাছে যাচ্ছেন।

এর আগে দলীয় কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের চলমান বিরোধের জেরে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করতে এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রধান শাখায় চিঠি দেন সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, যিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করেন।

যদিও কাগজে কলমে অরূপ বিশ্বাস এখন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ নন। ৫ জুন তার বদলে তৃণমূলের নতুন কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন দলের সাবেক এমপি শুভাশিস চক্রবর্তী। কিন্তু ব্যাংকে দেওয়া চিঠিতে অরূপ দাবি করেছেন, তিনিই এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ। কারণ ব্যাংকের নিয়ম মেনে এখনও শুভাশিসকে ‘সিগনেটরি’ বা আর্থিক লেনদেনে সই করার অধিকারী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দল।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় এইচডিএফসি ব্যাংকে তৃণমূলের তিনটি হিসাব নম্বর দিয়ে অভিযোগ করেছেন, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেগুলোতে বেআইনিভাবে পাওয়া অর্থ জমা রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হিসাবগুলোতে লেনদেন হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বেআইনি লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আনন্দবাজার বলছে, ওই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ। এর ভিত্তিতেই পুলিশ তিন ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলা বা লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

তবে তিনটি ব্যাংক হিসাবের মালিক কে বা কারা, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি অভিযোগে। তবে কয়েক বছর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তথ্য পেশ করা হয়েছিল তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি হিসাব রয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে। অন্য দুটি হিসাবের একটি দলের ত্রিপুরা শাখা এবং অন্যটি দলের গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত।

২০২২ সালে গোয়া বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের খরচের বহর দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছিল দাবি করে খবরে বলা হয়, ৪০ আসনের বিধানসভায় ২৩টিতে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। তার পর কমিশনকে জানিয়েছিল, নির্বাচনি প্রচার খাতে খরচ হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৪ লাখ রুপি। একটা আসনও অবশ্য জিততে পারেনি তৃণমূল।

অন্যদিকে একই নির্বাচনে ২০টি আসনে জেতা বিজেপি খরচ করেছিল ১৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। তৃণমূলের হয়ে গোয়ায় ভোট পরিচালনা করেছিল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক।

আর্থিক দুর্নীতি তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-ইডির অভিযোগ, গোয়া নির্বাচনের সময় কয়লা পাচারের বিপুল টাকা ঢুকেছিল আইপ্যাকের ব্যাংক হিসাবে। সেই মামলায় আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম পরিচালক বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তারও করেছিল ইডি।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন আইপ্যাকের আরেক সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক প্রতীক জৈন। এই অবস্থায় গোয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।

এদিকে জি নিউজের এক খবরে বলা হয়, দলের বিদ্রোহী ২০ এমপির বিরুদ্ধে এবার লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাদের পার্লামেন্ট সদস্যপদ খারিজের জন্য পিটিশন জমা দিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার দিল্লিতে গিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। সঙ্গে ছিলেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।

 

 

Related Articles

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ম্যাচের প্রথমার্ধে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও...

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ফটিকছড়িতে ভারতীয় নাগরিক আটক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুর সীমান্ত এলাকা থেকে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার...

বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা খুলে দিয়েছেন...

অপতথ্য প্রচার করা ৪০০ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে...