সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করল প্রধান আসামি

by নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার সোহেলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এরপর হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল, ৩০, স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, খবর বাসস-এর।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আরো পড়ুনঃ বনশ্রীতে মাদ্রাসার বাথরুমে ধর্ষিত শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ

অপরদিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে, ২৬, আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে আজ মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ জুন দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন রোডের একটি বাসার কক্ষে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে, ৭, পাশের বাসার বাসিন্দা সোহেল বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় বুধবার পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আসামি করা হয়।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্নাকে আটক করে। তবে সোহেলকে আটকের আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একজন রিকশা মেকানিক। পুলিশ জানিয়েছে, সোহেলের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।

নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই শিশু রামিসাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল।

এদিকে পুলিশের দাবি, মূল আসামি সোহেল যেন পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘসময় দরজা খোলেননি স্ত্রী স্বপ্না। সোহেল ও তার আরেক সঙ্গী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দরজা খোলেন তিনি। তিনি নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদকারী তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, “মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না নিজ বাসার একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। সোহেল বাইরে থেকে ওই কক্ষের সিটকিনি লাগিয়ে দেন। এরপর তিনি রামিসাকে ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে জোর করে ধরে ভেতরে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেক ব্যক্তি। রামিসা চিৎকার করলে তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।”

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে রাখা ছিল মাথা।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

You may also like