২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই প্রকল্প ফাইল পাসের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ তোলার পর আসিফ মাহমুদ সম্পর্কে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “একটা ফাইল আমার নজরে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়ে এসে নিজে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটা তদন্তে আসবে। যেটি একেবারে রুলস অব প্রসিডিওর ও রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থী। কারণ, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ছাড়া কখনোই মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি কখনোই আইনে, রুলস অব প্রসিডিওরে, রুলস অব বিজনেসে নেই।“
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাবেক ওই উপদেষ্টার নাম আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, তদন্তে বিস্তারিত আসবে, এখন এর বেশি বলা ঠিক হবে না।
আসিফের চ্যালেঞ্জ
সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ ব্যাপারে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে সেই নির্দিষ্ট ফাইল প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি বলেছেন, “যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে রবিবারের মধ্যে ফাইলটা জনগণের সামনে উত্থাপন করবেন।“
আরো পড়ুনঃ ‘ভায়োলেন্স চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়েছি’
২৪ মিনিটের এই লাইভে কোনো মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রক্রিয়াটা না বুঝলে যে অভিযোগ আনা হলো, সেটা বোঝা মুশকিল হবে। তাঁরা (মীর শাহে আলম) মাত্র তিন মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। হয়তো প্রক্রিয়াটা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি।…প্রক্রিয়াটা খুব লম্বা, যেটাকে আমরা অনেকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বলে থাকি। আপস্ট্রিমে কোনো ফাইল সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর টেবিলে আসাই সম্ভব নয়, অনুমোদন দেওয়া তো অনেক দূরের আলাপ। সচিবকে না জানিয়ে বা গোপন রেখে কোনো প্রকল্প পাস হওয়া অসম্ভব। একটা প্রকল্প তো আপনি মুখ দিয়ে বলে দিলেন আর হয়ে গেল, এমন নয়।“
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, “উনি (প্রতিমন্ত্রী) যে কথাটা বললেন, সচিবের অনুপস্থিতিতে বা স্বাক্ষর ছাড়া অবৈধভাবে উপদেষ্টা ফাইল পাস করেছেন, আমার মনে হয়, এটা নিয়ে আরও বেশি ক্ল্যারিটি (স্পষ্টতা) প্রয়োজন। এক্স্যাক্টলি কোন ফাইল…এটা তো অন পেপার থাকার কথা যে একটা ফাইলে আমার স্বাক্ষর আছে, সচিবের স্বাক্ষর নেই। মাঝেমধ্যে সচিব বিদেশ সফরে থাকলে তাঁর অনুপস্থিতিতে সাধারণত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিবের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন তিনি এই ফাইল ওয়ার্কগুলো কন্টিনিউ করে থাকেন। ফলে সচিবের অনুপস্থিতিতে হলেও অতিরিক্ত সচিবের অবশ্যই স্বাক্ষর থাকার কথা। আমি একটু ক্ল্যারিটি চাইব মীর শাহে আলমের কাছে।“
এ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, “হতে পারে সচিব দেশে নেই, একটা ফাইল অতিরিক্ত সচিবের স্বাক্ষরের পরে এল, আমি স্বাক্ষর করলাম, অতিরিক্ত সচিবের মাধ্যমে চলে গেল। এটা আইনগতভাবে বৈধ।“
রাজনৈতিক রং দেওয়ার জন্য মীর শাহে আলম তাঁর নাম বলে থাকতে পারেন উল্লেখ করে লাইভে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি এটার ক্ল্যারিটি চাই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমাকে অ্যাকাউন্টেবল (জবাবদিহির আওতায় আনা) করবে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে দেখাবে যে কোন ফাইলে এই অনিয়মটা হয়েছে।“
লাইভের শেষাংশে আসিফ চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, “মিস্টার শাহে আলমকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যদি সৎ সাহস থাকে, তিনি যদি নিজের বক্তব্যে স্ট্যান্ড করেন, তাহলে আগামীকাল রোববারের মধ্যে ফাইলটা জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন এবং উত্থাপন করবেন। আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছি। আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও চ্যালেঞ্জ করছি। যদি তাঁরা এটা পাবলিক না করেন, তাহলে আমি মনে করব, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তাঁরা এটা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসুন, কোথায় বেআইনি কী হয়েছে। আই এম চ্যালেঞ্জিং, লেট’স ফেইস ইট।“