ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতে গিয়ে জামাই আদরে প্রতিপালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মামুনুল হক এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারকে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। সেই হত্যাকারীদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করুন।’
আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১১ দল এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
মামুনুল হক বলেন, ‘যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে তারা পুরোনো রূপেও ফিরবে না, আর নতুন রূপেও ফিরতে দেবো না আমরা।’
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মনে রেখো, জুলাই বিপ্লবের পিঠে যদি ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করো, তবে ইতিহাস থেকে নির্মূল হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই এখন হাঁটা শুরু করেছে।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম-খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই (বিএনপি) সরকার কোনোভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।